উপন্যাস

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব নয়

উপন্যাস ।। পতঙ্গপ্রাণ - সমীর আহমেদ

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব ছয়

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব পাঁচ

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব চার

উপন্যাস। পতঙ্গপ্রাণ। সমীর আহমেদ। প্রথম পর্ব

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব দুই

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব তিন

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব সাত

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব আট

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব নয়

শের আলী গাজী ভাবলেন, বাবরের চোখে রাজ্যজয়ের স্বপ্নের আগুন থাকলেও গোলাপও তার হৃদয়ে প্রেমের বীজ বুনে দিয়েছিল। ভারতবর্ষ দখল করে বিপুল বিত্তের মালিক হলেও তার মনে শান্তি ছিল না। হয়তো গোলাপের জন্য তার মন হাহাকার করে উঠেছিল। এদেশে বনবাদাড়ে ফুটে থাকে ফুল! কোথাও বাগান নেই। তাই কাবুলের পর আগ্রায় গড়ে তুললেন বাগান। সেখানেই পুঁতে দিলেন গোলাপের চারা! ভারতের মাটিতে প্রথম গোলাপ ফোটার পর বসন্তের হাওয়া কি পারেনি তার হৃদয়ের আগুন নিভিয়ে দিতে? একটু প্রশান্তি দিতে? শের আলী গাজীর শরীরেও বীরের রক্ত। পাহলোয়ান গাজীর বংশধর সে। এ বংশেরই জমিদার ফজল গাজী। বাংলার বার ভুঁইয়ার একজন তিনি। কাউকে পরোয়া করেন না। তার মতোই স্বাধীনচেতা শের আলী গাজী। অথচ বাবুরের মতো গোলাপ ফোটানোর জন্য তিনিও তো কত উন্মুখ! সুদূর বসরাই থেকে চারা এনেছেন। এই যে ডালে ডালে কী সুন্দর গোলাপ ফোটা শুরু করেছে। গোলাপের রূপে তিনি মোহগ্রস্ত। তারপরও তার ভেতরে কেন এই কষ্টের ঢেউ? চারপাশের কোনো কিছুই তার ভালো লাগছে না। বৈরাগ্যভাব তার মনে উদয় হয়েছে। নিজেকে কিছুতেই আড়ালে রাখতে পারছেন না। তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে উদাসীনতা। বিষণ্নতা। অস্থিরতা। চিত্ত সদা চঞ্চল, ভ্রমরের মতো। হে মাবুদ, স্থির কর, বাক্যে, কর্মে। আমার সবকিছু কেন এত এলোমেলো হয়ে যায় আজকাল? গোলাপের দিকে তাকালে তার ভেতর থেকে সুঘ্রাণ নিয়ে যেন উঠে আসে এক নারী — পদ্মগন্ধা! হেসে বলে :
হৃদয়ে প্রেমের বীজ বপন করে দিয়েছো
এবার কুঁড়ি তো মেলবেই, বিরহের বিষ
বৃক্ষে ছড়াবে আগুন, তোমাকে অঙ্গার করে
বানাবে ছাই। আগুনে ঝাপ দেয়া ছাড়া অন্ধ
পতঙ্গের আর কোনো গতি নাই। সত্যি নাই।
তুমিও শায়ের জানো পদ্মগন্ধা! পদ্মগন্ধা এ কথার কোনো জবাব দেয় না। গোলাপ ছুঁতে গিয়ে শের আলী গাজীর হাতের আঙুল কাঁটার খোঁচায় রক্তাক্ত। যন্ত্রণায় তিনি আহ করে উঠলেন। পদ্মগন্ধা কিছুটা ক্রুর হেসে বলল :
গোলাপবাগে ঢুকে শুধু গোলাপ কেনই বা ছোঁবে?
কাঁটার দুঃখ নেবে না? গোলাপ তো এই কাঁটারই
অংশ। গোলাপ হাতে নিলে কাঁটাও সঙ্গে যাবে।
না না, আসলে আমি এমনভাবে গোলাপ ছুঁতে চাই কিংবা কাছে দাঁড়িয়ে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাই যেন কাঁটার স্পর্শ না লাগে!
তাই বুঝি! চাঁদ দেখবে, চাঁদের কলঙ্ক দেখবে না! তাহলে কী দরকার চাঁদের দিকে চোখ দেয়ার?
আরো ক্রুর হেসে পদ্মগন্ধার অন্তর্ধ্যান! কোথায় গেল সে! শের আলী গাজীর হাতে তিনটি পাতাসহ একটি টসটসে লাল গোলাপ। তিনটি আঙুল রক্তাক্ত। গোলাপ হাতে তিনি ফিরে গেলেন অন্দরমহলে। ফাতেমা বিবি এগিয়ে এলেন কাছে। শের আলী গাজী মৃদু হেসে বললেন, বাগানে গোলাপ ফুটেছে।
জানি।
একটি তুলে আনলাম।
আমার জন্য বুঝি!
হুম।
বাহ! কী সুন্দর ফুল! বাগানে প্রথম ফুটলো, তাই না? কিন্তু ও কী! আঙুল যে রক্তাক্ত! কীসে?
এ কিছু না, সামান্যই, কাঁটায়।
কাঁটায়!
গোলাপ ছিঁড়তে গেলে কাঁটায় এমন রক্তাক্ত হতে হয়।
মালীকে বললেই হত।
তাহলে গোলাপ তুলে আনার আনন্দ পাওয়া যেত?
কী যে কথা!
তুমি বুঝবে না।
শের আলী আবারও ঘর ছেড়ে বাইরে। ফাতেমা বিবি বিড়বিড় করেন, গাজী, আমি আপনাকে আসলেও বুঝতে পারি না। এ কেমন মতিগতি পুরুষের! বারবার চেষ্টা করেও অন্তর স্পর্শ করা যায় না!
বাইরে গিয়ে শের আলী গাজী ভাবেন, নাহ, এই নারী তাকে স্থির থাকতে দেবে না। না ঘরে, না বাইরে। চোখ বুজে থাকলেও সে মনের ভেতর থেকে উঁকি দেয়। ঘুমিয়ে থাকলে দেখা দেয় স্বপ্নে। এই যে সন্ধ্যার গোধূলি ঢেকে রাত্রির আঁধার ধীরে ধীরে নৈঃশব্দ্য বুকে নিয়ে ডুবে যাচ্ছে নিবিড় মগ্নতায়, শের আলী গাজী ফুলবাগানের পাশের রাস্তা দিয়ে একবার হেঁটে যাচ্ছেন ও-প্রান্তে, আবার ফিরে আসছেন এ-প্রান্তে, এর মধ্যেও সামনে এসে দাঁড়ায় পদ্মগন্ধা! ও-পাশে ফাতেমার ঘর। কাকে ছেড়ে কাকে ধরি, কোথায় বা যাই। আমি কেন এত দ্বিধাগ্রস্থ? কেন এত উদাসীন হয়ে পড়ছি। এজন্যই কি ভুসুকু বলেছেন,
‘কাহেরে ঘিণি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল হাক পড়অ চৌদীস॥’
তার মনে পড়ে যায় কাহ্নর পদ :
‘হেরি সে কাহ্নি নিঅড়ি জিনউর বট্টই।
ভণই কাহ্নু মো হিঅহি ন পইসই॥’
নিকটে জিনপুর রেখে কাহ্ন কি পালাতে পেরেছিল? আমিও কি পালাতে চাই পদ্মগন্ধার কাছ থেকে? নাকি আরো কাছে যেতে যাই তার? তাকে আরো কাছে পেতে চাই? আমি কেন বারবার বিমনা হই, মোহান্ধ হই কাহ্নর মতো? আমি কি পারবো না পদ্মগন্ধাকে উপেক্ষা করতে?
শের আলী গাজী বারবার ভাবেন, আমাকে পারতেই হবে। এ সম্ভব নয়। কিছুতেই সম্ভব নয়, আমি মুসলিম জমিদার। তাছাড়া বিবাহিত। আমার সমাজ আছে, সংসার আছে। খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, পদ্মগন্ধা হিন্দু ব্রাহ্মণের মেয়ে। তারও ধর্ম আলাদা, সমাজ আলাদা। দুইকে এক করার সহজ কোনো পথ খোলা নেই। হতে পারে মারাত্মক সংঘাত, রক্তপাত — এমন কী এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দাঙ্গা। কিংবা তা না হলেও সমাজে তার ঢিঁ ঢিঁ পড়ে যাবে। প্রজারা যে তাকে ঢের মান্যিগণ্যি করে তা আর করবে না। চাকরবাকররা সরাসরি কিছু বলার সাহস পাবে না বটে। কিন্তু আড়ালে আবডালে কানাঘুষা করবে। দূর থেকে ছুঁড়ে দেবে তাচ্ছিল্যদৃষ্টি। আর ফাতেমা বিবি তাকে গোচরে-অগোচরে সইতে পারবে না। হয়তো মুখ বুজে মেনে নেবে সব। কিন্তু রাতদিন নিশ্চয় মনে মনে অভিসম্পাত করবে। একদিকে শান্তি, আরেকদিকে চরম অশান্তি। তাছাড়া সুযোগ বুঝে তার শত্রুরাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। শেষমেশ কোথাও শান্তি থাকবে না। সুখ থাকবে না। তাহলে জেনেশুনে কেন এই বিষ পান করা? কেন এই সম্পর্কের বিষচক্রের জালে জড়িয়ে পড়া? এখান থেকে তার এখনই তো বেরিয়ে আসা উচিত। কিন্তু তিনি বেরিয়ে আসতে চাইলেও কি পদ্মগন্ধা দেবে? সে তো তার চাওয়া, না-চাওয়ার কোনো তোয়াক্কা করে না। যখন-তখন উদয় হয়, এই অন্ধকারে কী আলোতে। চেতনে কিংবা অচেতনে, তার সমগ্র সত্ত্বা দখল করে বসে আছে। অদৃষ্টের কোন পাকচক্রে তিনি পড়ে গেলেন! এ কি বিধাতার কোনো খেলা? তা না হলে কেন সেদিন তিনি ময়ূরপঙ্খি দর্শা গ্রামের ঘাটে ভেড়ালেন? আর ভেড়ালেনই যদি, ময়ূরপঙ্খি থেকে নেমে কেন তিনি হেঁটে গেলেন উজানে, কাশবনের দিকে? তিনি তো ভাটিতেই যেতে পারতেন। আর যদি গেলেনই উজানে তার সাথে দেখা হলো কেন? আরেকটু পরে গেলেই তো হতো। পদ্মগন্ধার সাথে তার দেখা হতো না। বুকে এ বিষের শেল তার বিঁধতো না। মাঝে মাঝে মন ভালো না থাকলে, না হয় তিনি ডুবে থাকতেন খৈয়াম, কবীর ও হাফিজের শায়েরে। কিংবা মিয়া তানসেনের গজলে।
না, সম্পর্কের জালে তিনি কোনোভাবেই জড়াবেন না। জেনেশুনে প্যান্ডোরার বাক্স তিনি খুলতে চান না। কিন্তু তা বললেই কি পারা যায়? প্রেমে যে পড়েছে সে-ই কেবল জানে, নিরন্তর যাতনার আগুন তাকে কীভাবে পোড়ায়। ইচ্ছার বিরুদ্ধে হাজারটা ‘না’ কীভাবে ‘হ্যাঁ’ হয়ে যায়। তখন তার আর করার কিছুই থাকে না। সে হয়ে পড়ে এক নিয়তির দাস। অন্ধ পতঙ্গপ্রাণে ঢেউ তোলে কত যে নাচের মুদ্রা! স্থির সে কোনোভাবেই থাকতে পারে না। থাকা সম্ভব নয়। আহা! আরেকবার কি দেখে আসা যায় না সেই মুখ? ব্যক্তিগত ভৃত্য মোকাদ্দেসকে তিনি পদ্মগন্ধার খোঁজখবর নিতে পাঠিয়েছিলেন। সে খবর এনেছে, বসন্তরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের একমাত্র কন্যা পদ্মগন্ধা। বসন্তরঞ্জনের জমিজমা আছে ভালোই। মোটামুটি স্বচ্ছল গৃহস্থ। তবে জমি চাষ তার মূল কাজ নয়। এ কাজে অন্য লোক নিয়োজিত আছে। তিনি নামকরা বৈদ্য। দর্শা গ্রামে বৈদ্যবাড়ি সবাই চেনে। শুধু দর্শা গ্রাম কেন, আশপাশে বা দূর দূরান্তে অনেক গ্রামে বৈদ্য হিসাবে তার বেশ নামডাক রয়েছে। শের আলী গাজী নিজেও একাধিক বার তার নাম শুনেছেন। কিন্তু কোনো প্রয়োজন হয়নি বলে এই প্রাসাদে কখনো তার ডাক পড়েনি। এখানে রয়েছে হেকিম আলী আকবর। সুদূর মুলতান থেকে এসেছেন। এই গড়জরিপায় তারও বেশ নামডাক রয়েছে। বসন্তরঞ্জনকে তিনি কখনো কোথাও দেখেছেন বলে মনে পড়ে না শের আলী গাজীর। মোসাদ্দেক বলে, দর্শা গ্রামে ঢোকার পর প্রথম দুটি বাড়ির পরই বামদিকে বসন্তরঞ্জনের বাড়ি বা বৈদ্যবাড়ি। এই বৈদ্যবাড়ির ঠিকানা তিনি কেন জোগাড় করলেন? আদৌ তিনি কি যেতে চান সেই গ্রামে? যেতে চাইলেই কি যাওয়া যায়? কীভাবে যাবেন তিনি? কোনো কারণ ছাড়া? মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি ঘুরে এসেছেন সেখান থেকে। এখন আবার ওইদিকে যাত্রা করলে ফাতেমা কী মনে করবে? তাছাড়া তার চাকরবাকর, কর্মচারীরাই বা কী ভাববে? আর পদ্মগন্ধার বাড়িতেই বা যাবেন কোন উছিলায়? অসুখের উছিলায় অবশ্য যাওয়া যায়। কিন্তু তার তো কোনো অসুখ নেই। মিথ্যা বলা হবে। মিথ্যা বলতে তার অস্বস্তি লাগে। তাছাড়া বৈদ্যবাড়িতে গেলেও বিপদ আছে। শের আলী গাজী চিকিৎসা নিতে বৈদ্যবাড়ি গিয়েছিল, সংবাদটি মুহূর্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। প্রাসাদে ফেরার সাথে সাথে ছুটে আসবে আলী আকবর। বিনয়ের সাথে বলবে, মহারাজ, আপনার কী অসুখ? এই অধমের কী অপরাধ? কেন আমাকে একবারও জানালেন না। কী পথ্য দিয়েছে বৈদ্য? দেখি দেখি। আপনার রোগ ঠিকঠাক ধরতে পেরেছে তো? নাকি ভুলভাল পথ্য দিয়েছে। হিন্দুর পথ্যে আপনার রোগ সারবে তো?
তখন কী বলবেন শের আলী গাজী? যদি তিনি বলেন, না, কোনো অসুখ হয়নি তার। শরীরও ঠিক আছে। শুধু বসন্তরঞ্জনকে দেখতে গিয়েছিলেন, কেমন বৈদ্য সে। তাহলেও কি আলী আকবর মন খারাপ করবে না? বিন্দু মাত্র সন্দেহ করবে না তাকে? তাছাড়া আলী আকবরকে না হয় বোঝানো খুব সহজ হবে। কিন্তু ফাতেমা বিবিকে তিনি কী বলবেন? অন্দরে ফিরলে সেও তো ছুটে আসবে। চিন্তিত মুখে বলবে, শোনলাম আপনি বৈদ্য বাড়িতে গিয়েছিলেন? শরীর খারাপ? কী অসুখ? কিছুই তো বললেন না। কী এমন অসুখ যে আলী আকবরের চিকিৎসায় ভালো হবে না। বৈদ্যবাড়িতে যেতে হল।
তখন তিনি যদি বলেন, না ওদিকে এমনই গিয়েছিলাম। বৈদ্য হিসাবে চারদিকে বসন্তরঞ্জনের খুব সুনাম। তাই তার খোঁজ-খবর নিতে গিয়েছিলাম। তখন, হয়তো তার কথা বিশ্বাস করবে ফাতেমা বিবি। যদিও তা না করারই কথা। মেয়ে মানুষ তো চোখ-মুখ দেখেই পুরুষের অন্তরের খবর পায়। ফাতেমা যদি গোপনে গুপ্তচর পাঠায় দর্শায়, আর জানতে পারে বসন্তরঞ্জনের একটি পরমা সুন্দরী কন্যা আছে — পদ্মগন্ধা, তাহলে, সে কি সন্দেহ করবে না? করবে তো। আর তা যদি নাও করে, তবুও প্রকৃত সত্য আড়াল করাও তো একধরনের অপরাধ। এই বোধ তাকে সব সময় পীড়ন করবে। তাই একবার সিদ্ধান্ত নিলেন, যাবেন না। কী দরকার, অহেতুক যন্ত্রণা বাড়ানোর? ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার? কিন্তু পদ্মগন্ধা তাকে চুম্বকের মতো টানছে। তার মুখ যখন মনে পড়ে, ভাবনা সব এলোমেলো হয়ে যায়। হ্যাঁ, যেতে তাকে হবেই। না গিয়ে তিনি কিছুতেই থাকতে পারবেন না। কিন্তু কীভাবে যাবেন? ছদ্মবেশে? নাকি জমিদার বেশে? ছদ্মবেশে গেলে ঝামেলা বেশি। রাস্তাঘাটে অনেকে তাকে চিনে ফেলতে পারে। চারদিকে হৈ চৈ পড়ে যাবে, জমিদার শের আলী গাজী ছদ্মবেশে বেরিয়েছেন। সাবধান। তখন বিড়ম্বনার অন্ত থাকবে না। তার চেয়ে জমিদার বেশে গেলেই ভালো। জমিদার হিসেবে, তার অধিভুক্ত এলাকায় যে কোনো সময়, যে কোনো কারণে কিংবা বিনা কারণে তিনি যেতে পারেন। এতে লজ্জা বা সংকোচের কিছু নেই। কাল ভোরেই কি শকট ছুটিয়ে দেবেন, দর্শা গ্রামের দিকে? ময়ূরপঙ্খির চেয়ে শকটই তো ভালো। তাড়াতাড়ি গিয়ে ফিরে আসা যাবে। বেশি চাকরনকরের যাবার দরকার নেই। শুধু শকট চালক হলেই চলবে। পরিষদবর্গ নিয়ে যাবার দরকার নেই। তাছাড়া শকটে সে রকম স্থানসংকুলানও হবে না। শকট চালককে আজ রাতেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। কাল বিহানেই রওয়ান দিতে হবে দর্শা গ্রামে। ঘোড়াশালের দিকে হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হলো, না, শকটেরও দরকার নেই। ঘোড়া নিয়ে তিনি একাই বেরিয়ে পড়বেন।

উপন্যাস ।। পতঙ্গপ্রাণ - সমীর আহমেদ

উপন্যাস- পতঙ্গপ্রাণ- সমীর আহমেদ- পর্ব আট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *