কাব্যশীলন

উপন্যাস- জীবনে মরণে- বিশ্বজিৎ বসু- পর্ব চৌদ্দ

উপন্যাস।। জীবনে মরণে- বিশ্বজিৎ বসু

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব দুই

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব তিন

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু ।। পর্ব চার

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব পাঁচ

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব ছয়

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিত বসু।। পর্ব সাত

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব আট

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব নয়

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব দশ

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব এগারো

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব বারো

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব তেরো

উপন্যাস- জীবনে মরণে- বিশ্বজিৎ বসু- পর্ব চৌদ্দ

১৮

নওপাড়ার অনন্ত দাস ৬৫ সালে দাঙ্গার পর পর বেড়াতে যাবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়, আর ফিরে আসে নাই। ৭১ এ যুদ্ধের সময় দাস পাড়া লুটের আগে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য রাজাকারেরা প্রথমে অনন্ত দাসের পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর শুধু পরে থাকে ভিটে আর‌ সীমানা ঘেরা ঝাঁকড়া আমি গাছের সাড়ি। ঘরগুলো পুড়ে যাবার পর অনন্তর বাড়ির নাম হয়ে যায় অনন্তর ভিটে। স্বাধীনতার পর যখন শরনার্থী পারাপারের জন্য বর্ডার খোলা ছিল, সে সময় একদিন এক লোককে নিয়ে হঠাৎ ভিটেতে এসে হাজির অনন্ত দাস। দুর থেকে অনন্ত দাসকে দেখে একে একে এগিয়ে আসে প্রতিবেশীরা। অনন্ত বাড়ির সীমানা দেখিয়ে দিয়ে সকলকে জানিয়ে দেয় সে ভিটেটা বিক্রি করে দিয়েছে এই লোকের কাছে। অনন্ত তার জ্ঞাতি ভাইয়ের বাড়িতে একরাত থেকে ফিরে চলে যায় ভারতে। গ্রামের দুচারজন বাদে কেউ এই নতুন বাসিন্দার নাম জানেনা। ‌হ্যাংলা পাতলা শরীর, মাথায় কাঁচা পাকাচুল, মুখে হালকা কাঁচা পাকা লম্বা দাড়ি। প্রথম প্রথম তার হাতে সবসময় থাকতো একটা দা। দা দিয়ে হয় ঝোপ পরিস্কার করছে, নয় বাঁশের চটা তৈরি করছে। কুষ্টিয়া থেকে এখানে এসে বাড়ি করায় লোকে তার নাম দিয়েছে কুষ্টেওয়ালা। অল্প কদিনের মধ্যে সে একখানা ছনের দোচালা ঘর তুলে নিয়ে আসে তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ।
কিছুদিন পর কুষ্টেওয়ালা গ্রামে ঘুরে ঘুরে এলুমিনিয়ামের হাড়ি পাতিল বিক্রি করা শুরু করে। মাঝে মাঝে তাকে দেখা যায় একটি ছালার বস্তা মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছে আবার কয়েকদিন পর আরেকটি বস্তা মাথায় নিয়ে ফিরে আসছে। লোকে জানে সে পুরানো হাঁড়ি পাতিল নিয়ে বিক্রি করতে যায় কুষ্টিয়ায়। আর ফিরে আসে নতুন হাঁড়ি পাতিল নিয়ে। বাস্তবে ভাঙা সিলভারের থালা বাসনের আড়ালে দেশত্যাগী মানুষ আর তাদের তৈজসপত্র বর্ডার পার করে দেয়া তার বড় ব্যবসা। সেই ১৯৫৩ সাল
থেকে রবি দাস কুষ্টে ওয়ালার এজেন্ট। অনন্ত দাসের সাথে যোগাযোগ করে নওপাড়ার এ বাড়িটি কিনতেও তাকে সহযোগিতা করেছে রবিদাস।
ডগরা ব্রিজের গোড়ায় পৌঁছার পর রবি দাস অপেক্ষা করতে থাকে অন্য কারো জন্যে। এর মধ্যে দুটো বাস চলে যায়। রবি দাস তখন অনেকটা অধৈর্য হয়ে উঠেছে। তৃতীয় বাসটি আসার একটু আগে দুটো পরিবার। রবিদাস রাগত স্বরে তাদের বলতে থাকে, কি এত দেরি হলো! আমরা এখানে আসার পর দুটো বাস চলে গেছে। এই বাস ফেল করলে ট্রেন ধরতে পারবো না। সবাইকে ফিরে আসতে হবে। ‌ আগন্তকরা নম্র ভাষায় উত্তর দেয়, কি করবো দাদা, শেষ বিদায় নিতে একটু বেশি সময় লেগে গেল।
এর মধ্যে আরেকটি বাস আসে। রবি দাস হাত উঁচু করলে বাসটি দাঁড়িয়ে পরে। সবাই বাসে উঠে পরে। বাস থেকে নেমে ট্রেনে ওঠার সময় রবি দাসের সাথে যুক্ত হয় আরো তিনটি পরিবার। সাথে কুষ্টে ওয়ালা।

১৯

কুষ্টেওয়ালার আরেকটি বাড়ি মেহেরপুর। বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের কাছাকাছি। সে বাড়িতে থাকে তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী। আর সে ঘরের দুই ছেলে। সীমান্তের সবকিছুই এখন তারাই ম্যানেজ করে। বাড়িতে ছয় সাত খানা ছোট ছোট ঘর। বিনা পাসপোর্টে যারা ভারতে যায় তারা এখানে এসে যাত্রা বিরতী করে। তারপর বিডিআর বিএসএফ ম্যানেজ করে সুবিধামত সময়ে এই দুই ভাই তাদের বর্ডার পার করে দেয়। রবি দাস নিশিকান্তসহ পাঁচটি পরিবার নিয়ে কুষ্টে ওয়ালার মেহেরপুরের বাড়ি পৌঁছায় সন্ধ্যার পর। কিছুক্ষণ পর কুষ্টে ওয়ালা এসে পৌঁছে সাথে আরো সেই তিনটি পরিবার। রাতে খাবারের জন্য চিড়া, গুড় আর জল নিয়ে আসে কুষ্টেওয়ালা আর তার বড় ছেলে। চিড়ে গুড় খেতে দিয়ে কুষ্টেওয়ালঅ বলে, আপনি আজ আমার অতিথি। কেউ যদি এসে জিজ্ঞেস করে বলবেন বাড়ি ফরিদপুর, বেড়াতে এসেছি। আর বর্ডার পার হবার পর যদি কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করে বাড়ি কোথায় বললবেন বাতকুল্লা। আমাদের লোক আপনাদের ওপারে ট্রেনে তুলে দিয়ে আসবে।
বাবার মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে কুষ্টেওয়ালার ছেলে বলে, সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে দাদা, হঠাৎ করে বর্ডার গরম। হেড অফিস থেকে লোক এসেছে। আপনাদের ভাগ্য খারাপ হলে ছয় সাত দিনও এখানে থাকা লাগতে পারে। অফিসার এলে কখনো কখনো সপ্তাহ খানেক এরকম থাকে, তারপর সে চলে যাবার পর আবার সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। বর্ডারের কড়াকড়ি কে এরা বলে গরম, আর কড়াকড়ি কমে গেলে বলে টান্ডা।
ছেলের কথা শেষ হলে কুষ্টেওয়ালা টাকা ভাঙানোর কথা তোলে এবং বলে বর্ডার পার হবার আগে টাকা বাটা করে নেবেন।
এখন টাকার বাটা কত করে। নিশিকান্ত জানতে চায়। শতকরা ত্রিশ টাকা, বাংলাদেশের একশ টাকা দিলে ভারতের ত্রিশ টাকা পাবেন। কুষ্টেওয়ালার ছেলে উত্তর দেয়। টাকার রেট ‌শুনে মুখ শুকিয়ে যায় নিশির। আক্ষেপের সুরে বলে, মাত্র!
কি করবেন বলেন, এখানেতো আমাদের হাত নাই।
টাকা বাটা করবো কোথায়? আমিই করে দেব। যখন বর্ডার পার হবেন তখন বাটা করে দেব।। নিশিকান্তদের অপেক্ষা করতে থাকে বর্ডার ঠান্ডা হবার অপেক্ষায়। দুইবেলা রুটি আর এক বেলা খিচুড়ি খেয়ে দিন পার করতে থাকে। তিন দিন পর কুষ্টেওয়ালার ছেলে এস বলে, আজ লাইন ক্লিয়ার আছে, আপনাদের পার করে দেব। বর্ডার পার হবার সময় বিডিআর এবং বিএসএফ আপনাদের জিজ্ঞাসা করবে নম্বর কত, উত্তর দেবেন ৩৩। অন্য নম্বর বললে ওরা কিন্তু আটকে দেবে। বর্ডার পার হবার আগে টাকা বাটা করে নেয় নিশি। অবিনাশের দেয়া দুই হাজার, নিজের জমানো একশ। মোট একুশশ। সেখান থেকে রবি দাসকে দিয়েছে দুইশ। বাকি উনিশশো টাকা বিনিময় করে পায় মাত্র ছয়শ ত্রিশ টাকা।
সপ্তাহ খানেক নিশিকান্তকে গ্রামে না দেখে কানাঘুষা শুরু হয়ে যায়। নিশিকান্ত কোথায়। নিশিকান্ত কোথায়। গ্রামের এ ওকে জিজ্ঞাসা করতে থাকে নিশে কোথায়। ছেলে আছে, নিশে নাই। নিরুকে জিজ্ঞাসা করলে নিরু বলে বেড়াতে গেছে। অবিনাশকেও অনেকে জিজ্ঞাসা করে, অবিনাশও উত্তর দেয়, সে বেড়াতে গেছে।‌ দুই সপ্তাহ পার হবার পর যখন নিশিকান্ত আসে না, তখন সবার প্রশ্ন নিশিকান্ততো কোথাও বেড়াতে গেলে এতদিন থাকে না। অবশেষে একদিন প্রতিবেশীদের ডেকে অবিনাশ জানিয়ে দেয় নিশিকান্ত ভারত চলে গেছে। একে একে গ্রামের সবাই জেনে যায় নিশে ভিটে আর ছেলে রেখে ইন্ডিয়ায় চলে গেছে। কেন গেল, কি হয়েছিল তা নিয়ে শুরু হয় নানা গুজব। অবিনাশ গুজব শোনে কিন্তু কোন উত্তর দেয় না। হাটের দিন অবিনাশের দোকানে ভীষণ ব্যস্ততা। প্রতি হাটে নিশি তাকে সাহায্যে করে। আজ নিশি নাই। দোকানের এক পাশে বসা অতুল আর নিরু। সবাই এসে মালামাল নিয়ে টাকা দেবার সময় জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছিল। অবিনাশ কাউকে বলে জানিনা, কাউকে বলে সময় হলে বলবো। মানিক অবিনাশের দোকানের খরিদ্দার। সদাই ব্যাগে তুলতে তুলতে নিজেই বলা শুরু করে, নিজের দেশ মাটি রেখে বিদেশে থাকা যে কি কষ্টের সেটা আমি জানি। আব্বার উপর জেদ করে চার বছর ছিলাম, তারপরে আর পারি নাই।‌ আর মানুষ ছোট খাট ব্যথা পেলে দেশ মাটি ছাড়ে না, নিশ্চয় নিশে কোন বড় ব্যথা পেয়েছে। এমন সময় মোকা আসে অবিনাশের দোকানে। মোকাকে দেখে অবিনাশের মেজাজ ঠিক রাখতে পারছিল না। মোকা এসে অবিনাশকে জিজ্ঞাসা করে, নিশে নাকি ওর দেশে চলে গেছে, সত্যই না কি? হঠাৎ কি জন্য গেল। কেন গেল সেতো তুই ভাল জানিস! অবিনাশ উত্তর দেয়।
আমি কিভাবে জানবো! না জানলে তুই আমার সামনে থেকে এখন‌ যা। তুই আমাকে তাড়ায়ে দিচ্ছেন। হ, তোকে তাড়ায়ে দিচ্ছি, তুই আর কোনদিন আমার দোকানের সামনে আসবি না। যদি না যাই। তেড়ামি করিসনা, তুই এখন যা। আমি কিন্তু নিশিকান্ত না। একথা বলে অবিনাশ মনোযোগ দেয় মানিকের দিকে। মোকা গজ গজ করতে করতে দোকান থেকে বের হয়ে যায়। বুঝতে পারে অবিনাশ সব জানে। যাওয়ার সময় বিরবির করে বলতে থাকে, শালার মালাওন, তোরে আমি দেখে ছাড়বো। মোকার গজ গজ করে বের হয়ে যাওয়া দেখে মানিক ‌নিজে নিজেই বলতে থাকে, তাহলে নিশের চলে যাবার পিছনে মোকা কলকাঠি নাড়ছে। ঐ শালায় একটা ক্রিমিনাল। বাপও ছিল ক্রিমিনাল, নিজেও হয়েছে ক্রিমিনাল। হিন্দু মুসলমান কেচাল বাঁধানোর জন্য শালা খালি ছোখ ছোখ করে। মাথায় খালি ধান্দা আবার একটা কেচাল হলে লুট করা যাবে। অবিনাশ কোন উত্তর দেয় না, অবিনাশের মুখের ভাব দেখে নিজের অনুমান সত্য ধরে সদাই নিয়ে চলে যায় মানিক। মোকাকে দোকান থেকে বের করে দেবার পর অবিনাশের মনে হলো, মোকা একটা বড় ধরণের দ্বন্দ্ব বাঁধানোর চেস্টা করবে। নিশিকান্তের সাথে যা করেছে, এলাকায় যা করে বেড়াচ্ছে সেগুলো চেয়ারম্যানকে জানিয়ে রাখা ভাল।
অবিনাশ দোকান থেকে ফেরার পথে হাঁটতে হাঁটতে যায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে। হাটের দিন হওয়ায় যেতে একটু রাতই হয়ে যায় অবিনাশের। চেয়ারম্যান তখন শুয়ে পড়েছে। অবিনাশ প্রথমে তোফাজ্জেলকে ডেকে তুলে, তারপর যায় চেয়ারম্যানের ঘরে। অবিনাশের গলা শুনে বারান্দায়ে এসে চেয়ারে বসে চেয়ারম্যান। অবিনাশ নিশিকান্তের চলে যাবার পিছনের কারণগুলো সব বলে চেয়ারম্যানকে। সব কথা শুনে রেগে আগুন হয়ে যায় চেয়ারম্যান সাহেব। চেয়ার থেকে উঠে রাগে থর থর করে কাঁপতে থাকে। তোফাজ্জেলকে বলে কালকেই আমি মোকার বিচার বসাবো। আমার বাড়িতে সে এই কাজ করছে। আমার মান সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। বিশ্বাস করে গ্রামের হিন্দুরা আমার বাড়িতে খেতে এসেছিল, তাদের কাছে
আমাকে অপমান করেছে।
চেয়ারম্যানের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছোট ছেলে বকুলও ঘর থেকে বের হয়ে আসে। বড় ছেলে বাবাকে ধরে নিয়ে আবার চেয়ারে বসায়। শান্ত হোন, আপনি শান্ত হোন বলে বাবাকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকে। চেয়ারম্যান চেয়ারে বসে ধীরে ধীরে শান্ত হয়। এ ঘটনা ছাড়াও মোকা এলাকার হিন্দুদের সাথে কি ধরণের আচরণ করেছে সব কিছু বলে। সব শুনে চেয়ারম্যান ছেলেকে বলে, কাল বাজারে শালিস হবে। মোকা যেন সেখানে উপস্থিত থাকে।
অবিনাশ বিদায় নিয়ে চলে আসে। আসতে আসতে তাকাতে থাকে রাস্তার পাশে পরে থাকা শুন্য ভিটেগুলোর দিকে। নন্দীবাড়ি, বুদের ভিটে, মালির ভিটে, সেনের ভিটে, রাহুত বাড়ি, বুড়ির ভিটে, পাল বাড়ি। অবিনাশ মনে মনে ভাবতে থাকে; হায়রে রাজনীতি! হায়রে রাজনীতিবিদ! বাপ-ঠাকুরদা চৌদ্দ পুরুষের ভিটে, যাদের নাড়ি মিশে আছে এই মাটির সাথে, যাদের মৃত দেহ মিশে আছে এই মাটির প্রতিটি কণায়, এই জল-বায়ু হাওয়ায় যাদের বেড়ে ওঠা, জীবনে মরণে যারা এই মাটির সন্তান; একদিন সকালে উঠে তাদের বললে, এ মাটি আর তোমার না। মাঝখানে বর্ডার তৈরি করে বললে ওপারে গিয়ে জায়গা খুঁজে খাও। বাহ্! বাহ্ সর্বশেষ নিশিকান্তের ভিটের সামনে এসে দাঁড়ায় অবিনাশ। মনে পরে যায় কত স্মৃতি। গৌরীর বুকে সাঁতার কাটা, মাথা ভাঙা বিলে মাছ ধরা, এক সংগে দাঁড়িয়াবাধা খেলা। বিপদে আপদে ডাক দিলেই ঝাঁপিয়ে পড়তো নিশি পদ্ম দুজনেই। মৃত্যুর আগে বাবা যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, নিশিকান্ত রাতের পর রাত জেগে বাবার পাশে থেকে সেবা করেছে বাবাকে। তপন চলে গেল, নিশিও চলে গেল। সাতচল্লিশ সাল থেকে এই চলে যাওয়া শুরু হয়েছে, তা চলছেতো চলছেই। সাথে সাথে ভাবনা আসে। তপন আর নিশিই কি তাহলে ঠিক করেছে, আমি কি থাকতে পারবো, নিরু অতুল কি থাকতে পারবে। নিশির ভিটের সামনে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল বুঝে উঠতে পারে নাই অবনিাশ। হঠাৎ মনে হলো না! দেরি হয়ে যাচ্ছে। রমা আর মা অপেক্ষা করছে আমার জন্যে।

উপন্যাস।। জীবনে মরণে- বিশ্বজিৎ বসু

উপন্যাস।। জীবনে মরণে।। বিশ্বজিৎ বসু।। পর্ব তেরো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *