উপন্যাস

উপন্যাস- জীবনে মরণে- বিশ্বজিৎ বসু- পর্ব পনেরো

সকাল থেকে মুখে মুকে জানাজনি হয়ে গেছে, চেয়ারম্যান শালিস ডেকেছে, বিকালে বাজারের বটতলায় শালিস। মোকার বিচার হবে। চেয়ারম্যান গ্রামের সকলকে শালিসে আসতে বলেছেন। গ্রামের হিন্দু মুসলিম সকলেই সময়মতো সেখানে হাজির। বটতলায় একটা চেয়ারে বসা চেয়ারম্যান, পাশে একটি চেয়ার খালি। সামনে কিছু চেয়ার আর কয়েকটা বেঞ্চ। বয়স্করা বসা, পিছনে দাঁড়ানো আরো কিছু মানুষ। চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়ানো তার দুই ছেলে। শুধু অপেক্ষা মোকার জন্যে। মোকা আর আসে না। চেয়ারম্যান দুজন লোক পাঠায় মোকার বাড়িতে, মোকাকে নিয়ে আসতে। সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কি হয়েছে জানার জন্য। কানা ঘুষা চলতে থাকে কি করেছে মোকা। নানা জনের নানা রকম কল্পনা। যে দুজন মোকাকে ডাকতে গিয়েছিল, তারা ফিরে এসে জানায় মোকা বাড়িতে নাই, পালিয়েছে! অবিনাশ সামনে একটা চেয়ারে বসা ছিল, কথা শুরু করার আগে চেয়ারম্যান অবিনাশকে পাশে ডেকে নেয়।
তারপর সবাইকে সালাম দিয়ে কথা শুরু করেন।
আপনারা জানেন সারাজীবন ধরে মানুষ আমাকে শালিসে ডেকেছে, আমি অন্যের অন্যায়ের বিচার করেছি। আজ আমি শালিস ডেকেছি, আমার অন্যায়ের বিচারের জন্যে। আমি এমন একটা অপরাধ করেছি, যে অপরাধের কোন ক্ষমা নাই। শালিসে আসা সবাই বড় বড় করে এর ওর দিকে তাকাতাকি করতে থাকে। অনেকটা আকাশ থেকে পড়ার মতো। চেয়ারম্যান তার কথা বলতে থাকে।
আপনারা জানেন, বকুলের বিয়ে ছিল আমার সন্তানদের শেষ বিয়ে। আমার ইচ্ছে হয়েছিল গ্রামের হিন্দু মুসলিম সবাইকে নিয়ে সমান আনন্দ করার। তাই আমি সবাইকে পোলাও মাংস খাবার দাওয়াত দিয়েছিলাম। আমাদের হিন্দু গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করে আমার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছিল। কিন্তু আমি তাদের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে পারি নাই। আমার বাড়িতে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে, আমি অবিনাশের সামনে, আমার হিন্দু ভাইদের সামনে মুখ দেখাতে লজ্জা পাচ্ছি। আজ আমার ভুলের জন্য নিশিকান্ত দেশ ছেড়ে চলে গেছে। আমি যদি মোকাকে সেদিন খাবার পারস করতে না দিতাম তাহলে আমরা নিশিকান্তকে হারাতাম না। বিশ্বাস রক্ষা করতে না পারার জন্য আমি আমাদের হিন্দু প্রতিবেশীর কাছে জোড় হাত করে ক্ষমা চাইছি। বাবা অবিনাশ যদি সম্ভব হয়, নিশিকান্তকে জানিয়ে দিও, আমি তার কাছ ক্ষমা চেয়েছি। এখবর তার কানে পৌঁছালে সে হয়তো আমাকে ভুল বুঝবে না।
আমাকে ক্ষমা করে দেবে।
অবিনাশ উঠে দাঁড়িয়ে বলে, কাকা আপনার কোন ভুল নাই, আপনি মোকার উপর বিশ্বাস করছিলেন, মোকা আপনার বিশ্বাস রক্ষা করতে পারে নাই। অন্যায়টা করেছে মোকা, আপনি নয়। আপনি মাফ চাইবেন কেন। এরপর কি ঘটেছিল নিশিকান্তের সব ঘটনা প্রকাশ করে অবিনাশ।
চেয়ারম্যান আবার কথা বলা শুরু করে, আমি জানি অবিনাশরা প্রকাশ্যে আমাকে কিছু বলবে না, কিন্তু মনে মনে অসম্মান করবে। কাল রাত থেকে আমার বুকটা ভার হয়ে ছিল। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি নাই। মনে হচ্ছিল যতক্ষণ আমি ক্ষমা না চাচ্ছি, ততক্ষণ আমি এ কষ্ট থেকে মুক্তি পাব না।
আপনাদের সামনে ক্ষমা চেয়ে আমার খুব হালকা লাগছে।মোকার কারণে আমাকে এই ধরনের অসম্মানের ভাগীদার আমাকে হতে হলো। আপনারা বলুন মোকার কি বিচার হওয়া উচিৎ।
শালিসে আসা নানা জনে নানা মত দেয়া শুরু করে। কেউ বলে ওকে ১০০ জুতার বাড়ি দেয়া হোক, কেউ বলে ওকে গ্রাম থেকে বের করে দেয়া হোক, কেউ বলে ওকে এক ঘরে করে রাখা হোক, বিয়ে সাদিসহ সব ধরণের অনুষ্ঠানে ওকে দাওয়াত দেয়া বন্ধ হোক।
চেয়ারম্যান সকলের মতামত শুনে বলেন, আপনারা বিচারের রায় দিয়ে দিয়েছেন। এখন আপনারা এ সিদ্ধান্ত মানবেন কি মানবেন না আপনাদের ব্যাপার। তবে আমি ঘোষণা করছি, মোকা কোনদিন আমার বাড়িতে দাওয়াত পাবে না। আমার মৃত্যুর পর সে যেন আমার কবর খুঁড়তে না আসে। আমার জানাজায়ও যেন সে না আসে।

সামনে হ্যাঁ না ভোট। জিয়াউর রহমানকে প্রেসিডেন্ট হতে হলে হ্যাঁ ম্যান্ডেট পেতে হবে। সরকার হেলিকপ্টারে করে গ্রামে গঞ্জে লিফলেট ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, হ্যাঁ ভোট দেবার। কদিন আগে গৌরীপুর গ্রামের উপর দিয়ে হেলিকপ্টার হতে লিফলেট ফেলে গেছে।
সন্ধ্যার পর মোকা এলাকায় মিছিল বের করে তার সাগরেদদের নিয়ে। ভোট চাই, ভোট দিন, হ্যাঁ বাক্সে ভোট দিন। এলাকায় কিছু শিশু কিশোরও যোগ দেয় সে মিছিলে। অবিনাশ দের বাড়ির সামনে এলে মিছিলের স্লোগান পাল্টে যায়। তখন স্লোগান হয়,জয় বাংলা-কদুর জাংলা।
গণভোটে হ্যাঁ জেতাতে হবে। আজিজ মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া আসে চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করতে।
আজিজ মিয়া ছিল মুসলিম লীগের নেতা এবং এমএলএ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিল পিস কমিটির নেতা।
আজীজ মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় হার্ট এটার্ক করে মারা যায়। ছেলে জামাল মিয়া সারাজীবন থেকেছে ঢাকা কিম্বা লন্ডন। রাজনীতির সাথে কখনও যুক্ত ছিলনা। বাবার নির্বাচনের সময় অদৃশ্য থেকে বাবাকে নর্বিাচনে সহযোগিতা করেছে, কিন্তু কোনদিন জনগণের সামনে আসে নাই। যুদ্ধের পর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়, মুসলিম লীগ তখন ভেঙেচুরে কয়েক টুকরো তাই রাজনীতি করার সুযোগও হয় নাই। ঢাকাতে ব্যবসা করেই চলছিল জীবন। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জিয়াউর রহমান মুসলিম লীগ নেতাদের ডেকেছিল, সাথে জামাল মিয়াকেও ডেকেছিল। সে কথা দিয়েছে রাষ্ট্রপতি হতে পারলে তাদের একজনকে প্রধানমন্ত্রী করবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হতে জনগণের হ্যাঁ ম্যান্ডেট লাগবে। হ্যাঁ ভোটকে জেতাতে হবে। তাই তিনি গণ সংযোগে বের হয়েছেন। গাফ্ফার চেয়ারম্যান ছিলেন স্থানীয় মুসলিম নেতা আর আজিজ মিয়া ছিল তার নেতা। বাবার পুরানো সব লিংকগুলো তিনি এ নির্বাচনে কাজে লাগাতে চান।
জামাল সাহেব যখন গাড়ি থেকে নামে, মোকাও নামে তার সাথে। মোকাকে জামাল সাহেবের গাড়ি থেকে নামা দেখে চেয়ারম্যান সাহেব একটু আশ্চর্য। বিচারের কয়েক মাস পর আজই প্রথম মোকা চেয়ারম্যান মুখোমুখি। জামাল সাহেব মোকাকে দেখিয়ে বলে, ওকে একটু দেখে রাখবেন চাচা। পাকিস্তান আমলে চেয়ারম্যান তার বাবার সাথে রাজনীতি করেছে, জামাল চৌধুরী সেকারণে চেয়ারম্যানকে চাচা বলে সম্বোধন করে। চেয়ারম্যান সাহেব জামাল চৌধুরীর মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু উচ্চারণ করলেন,কিন্তু!
জামাল সাহেব চেয়ারম্যানের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলে, পাকিস্তান রক্ষা করতে গিয়ে ওর বাবা শহীদ হয়েছে, আমার বাবাও শহীদ হয়েছে। দুইজনেই বাপ হারায়ছি। আপনিও আমাদের লোক, সেও আমাদের লোক।

কিন্তু ও যা করছে এটা তো আমি মেনে নিতে পারি না। আপনার কাজ আপনি করবেন, ওর কাজ ও করবে। আমার দুজনকেই দরকার। তাই বলে হিন্দুকে মুসলমান বানানোর চেষ্টা, মানুষের খড়ের পালা, গোয়াল ঘরে আগুন দেয়া। মানুষের বসত ঘরেতো এখনও আগুন দেয় নাই। আপনি এগুলো সমর্থন করছেন।
জামাল সাহেব এবার লম্বা সময় নিয়ে উত্তর দেয়। চাচা আপনি তো বেসিক ডেমোক্রেসিতে মেম্বরদের ভোটে চেয়ারম্যান ছিলেন। চেয়ারম্যান হতে জনগণের সরাসরি ভোট তো ফেস করেন নাই। আপনি মুসলিম লীগ করতেন, এখন যদি আপনি ভোটে দাঁড়ান হিন্দুরা আপনাকে ভোট দেবে না। এখন ভয়ডর দেখিয়ে যে কজনকে ওপারে পাঠানো যায়, সেই কটা ভোটে আপনি এগিয়ে গেলেন। প্রতি গ্রাম থেকে মাসে গড়ে একজন করে চলে গেলে, সারা দেশ থেকে মাসে চলে যাবে আটষট্টি হাজার। বছরে চলে যাবে আট লাখ। আমর বাপ চাচারা সংগ্রাম করে এটা মুসলমানদের দেশ বানিয়েছিল। আপনিও বাবার সাথে ছিলেন, বাবার স্বপ্ন পুরণের জন্য যা যা করার দরকার তা আমাদের করতে হবে। হিন্দুদের এদেশ থেকে তাড়াতে হবে। ৭১ সালে আমরা পারি নাই, আমাদের দিন আবার ফিরে এসেছে। তবে এখন তাড়ানোর কায়দাটা হবে একটু ভিন্ন। দেশ হ্যাঁ-না ভোটের পর সংসদ নির্বাচন হবে, আমি নির্বাচন করবো। মোকাকে মোকার কাজ করতে দেন। সামনের হাটের দিন গৌরীপুর মেলার মাঠে ফুটবল খেলার আয়োজন হবে। আমি সেখানে থাকব। চেয়ারম্যান সাহেব এ নিয়ে আর কোন কথা বাড়ায় না। সে জানে মুসলিমলীগের ঘৃণার রাজনীতির বিভৎস রূপ। এখন এই শেষ বয়সের বুঝে হিন্দুদের এভাবে তাড়ানোকে অন্যায় মনে করে। শুধু জিজ্ঞাসা করে, কোন কোন দল ফুটবল খেলবে? সেটা মাঠে গেলেই দেখবেন। সামনে হ্যাঁ না ভোট। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ এখন বন্ধ। খেলার কথা বলে জনগণের সমাবেশ করতে হবে। আপনার কিছু করতে হবেনা। মোকার লোক মাইকিং করবে। আপনি ঐদিন মাঠে থাকবেন। অনেকটা নির্দেশ দেয়ার কথাগুলো বলে জিপে উঠে বসে জামাল সাহেব।

পরদিন হতে মোকা শুরু করে মাইকিং। ফুটবল খেলা খেলা। জামাল মিয়া একাদশ বনাম গৌরীপুর একাদশ।
খেলার মাঠে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন চৌধুরী আব্দুল আজিজ সাহেবের সুযোগ্য পুত্র চৌধুরী জামাল ইবনে আজিজ।
তিনচার দিন সকাল বিকাল মাইকিং চলে। গৌরী মেলার মাঠে খেলা, অবিনাশ মন্দির কমিটিরি সভাপতি, এই কমিটিই মাঠটি পরিচালনা করে। স্কুল তৈরি হবার পর মন্দির কমিটি মাঠটি স্কুলের ছেলে মেয়েদের খেলার জন্য অনুমতি দিয়েছে। এ মাঠে খেলা হবে; অবিনাশ কিছু জানে না! এলাকার লোক হেড মাস্টারকে জিজ্ঞেস করে, হেড মাস্টার কোন উত্তর দিতে পারে না! মাইকিং চলছে!
জামাল সাহেব আসছে গৌরীপুর স্কুল মাঠে। এর আগে কেউ তাকে কখনো দেখিনি। আজিজ সাহেবের পুত্র। খেলার দিন দুপুরের পর থেকে মানুষ আসতে থাকে বিল গৌরীপুর হাইস্কুল মাঠে। খেলা এবং জামাল সাহেবকে দেখার জন্য। আজিজ মিয়া ছিল চেয়ারম্যানের নেতা, এক সময়ে সে আজিজ মিয়ার কথায় সে উঠতো বসতো। তার উত্থান এবং চেয়ারম্যান হবার পিছনে আজিজ মিয়ার সমর্থন ছিল অকুন্ঠ। সব মিলিয়ে চেয়ারম্যান ছিলেন আজিজ মিয়ার উপর কৃতজ্ঞ। তার ছেলে বাড়িতে মাঠে থাকতে বলেছে, তাকে না বলা চেয়ারম্যানে পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সেও হাঁটতে হাঁটতে উপস্থিত হয় মাঠে। মাঠের চারপাশে দর্শক। মাঝে এলাকার ছেলেরা যারা প্রতিদিন ফুটবল খেলে তারা তাদের মতো করে খেলছে। ওরাও জানে না মাঠে কারা কারা খেলবে। দর্শেকেরা মাঠের চারপাশে গোল দাঁড়িয়ে খেলা দেখছে।
আর অপেক্ষা করছে কখন জামাল সাহেব আসবে তার দল নিয়ে। মাঠের একপাশে রাস্তার ধারে একটা রিক্সার মাথায় দুটো মাইক বাধা। মাঠে নানা গুঞ্জন, নানা গুজব। কোথায় ফুটবল দল। কোন কোন দল খেলবে। তাহলে কি জামাল সাহেবের সাথে দল আসছে, ইত্যাদি, ইত্যাদি।
অনেক অপেক্ষার পর জামাল মিয়া এলেন সেই জিপে করে। সামনে একটা পুলিশের গাড়ি। জিপের ভিতরে কয়েকজন লোক বসা। জামাল মিয়া লোকগুলোসহ সরাসরি গিয়ে দাঁড়ালেন মাইকের সামনে। গাফ্ফার চেয়ারম্যান আশেপাশেই ছিল। জামাল সাহেবকে আসা দেখে তিনিও আস্তে আস্তে এগিয়ে এলেন মাইকের কাছে। জামাল সাহেব তাকে কাছে ডেকে পাশে দাঁড় করালেন। জামাল মিয়ার সহযাত্রী একজন এসে মাইকে ঘোষণা দিলেন, এখন আপনাদের সামনে কিছু কথা বলবেন, আমার প্রিয় নেতা চৌধুরী মোহাম্মদ আজিজ মিয়ার সুযোগ্য সন্তান চৌধুরী জামাল ইবনে আজিজ। জামাল মিয়া মাইকের সামনে
আসতে সেই ব্যক্তি স্লোগান দিয়ে উঠে, নারায়ে তকবীর, ফুটবল খেলার মাঠে হঠাৎ এ স্লোগানে দর্শকেরা অপ্রস্তুত কিংকর্তব্যবিমুঢ় দর্শকদের মধ্যে থেকে প্রথমে অল্প কয়েকজন ক্ষীণস্বরে উত্তর দেয়, আল্লাহ আকবর। সে ব্যক্তি দ্বিতীয়বার আবার স্লোগান দেয়, নারায়ে তকবীর, এবার কিছু বেশী মানুষ উত্তর দেয়, আল্লাহু আকবর। তৃতীয় বার নারায়ে তকবীর ধ্বনি দেয়াতে উত্তরের সংখ্যা আরেকটু বাড়ে।
স্লোগানের সময় জামাল সাহেব মাঠের দিক তাকিয়ে জনগণের হাবা ভাব দেখছিল। এবার সে মাইক নিয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করে। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, আসসালামু ওয়ালাইকুম। আমি আপনাদের বেশী সময় নেবনা। আপনারা একটু মাইকের কাছে আসেন। না হলে সব কথা এক মাইকে আপনাদের কাছে পৌঁছাবে না।
জামাল মিয়ার ডাকে দর্শকের একটি অংশ চলে আসে মাইকের কাছে । খেলার মাঠ পরিণত হয় জনসভার মাঠে। জামাল মিয়া জনগণের কাছে আসার সময় কিছুক্ষণ চুপ থাকে, তারপর আবার বক্তব্যে দেয়া শুরু করে।
প্রিয় ভাইয়রা, আমি এসেছি আপনাদের কাছে হ্যাঁ বাক্সে ভোট চাইতে। আপনারা জানেন দেশ আজ ফেরাউন মুক্ত। ফেরাউনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমরা ভারতের দালালদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছি। আমরা আমাদের নেতা পেয়ে গেছি। তিনি হচ্ছেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি হচ্ছেন ভারতীয় দালালদের ত্রাস। এদেশকে ভারতের দালাল মুক্ত রাখতে হলে জিয়াউর রহমান সাহেবকে আমাদের প্রেসিডেন্ট বানাতে হবে। আগামী ৩০শে মে গণভোট হবে, এ গণভোটে হ্যাঁ বাক্সে ভোট দিয়ে তাকে প্রেসিডেন্ট বানাতে হবে। এই মাটিতে আর কোন ভারতীয় দালালের স্থান হবে না। এখন সামরিক শাসন, তাই আর বেশি কথা বলবো না। ভারতের দালালদের বিরুদ্ধে আমাদের এ বিজয় ধরে রাখার জন্য হ্যাঁ বাক্সে ভোট দিয়ে জিয়াউর রহমানকে আমরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবো ইনশাল্লাহ্।
বক্তৃতা শেষে চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে হ্যান্ডশেক করে সোজা গিয়ে গাড়িতে জিপে। মোকাও জামাল মিয়ার সাথে গাড়িতে উঠে চলে যায়। গাড়িত ওঠার সময় কেউ একজন মোকাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করে, কিরে মোকা খেলা হবে না। মোকা মুচকি হাসি দিয়ে বলে, আজকের খেলা এখানেই শেষ। বাড়ির চলে যাও। পুলিশের পাহাড়ায় গাড়ি চলা শুরু করে, চলে যায় জেলা শহরের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *