অণুগল্প

অণুগল্প। ভালোবাসার সুখ দুঃখ। আহমদ হোসেন হেলাল

প্রকৃতি আজ নতুন রূপে সেজেছে। ঝকঝকে রৌদ্র উজ্জ্বল আবহাওয়া। গাছে লাল টকটকে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটেছে। বসন্ত কালের জাঁকজমক অনুষ্ঠান সবাই বেশ উপভোগ করেছেন। রিনা লাল হলুদ শাড়ি পরে অনুষ্ঠানে চমৎকার নজরুল সংগীত পরিবেশন করে। মহেশ মুগ্ধ হয়ে রিনার গান শুনছে। রিনার সুন্দর মুখমণ্ডল চমৎকার গানের কন্ঠে মুগ্ধ মহেশ। সেই মুগ্ধতাই রিনাকে মহেশ তার কাছে নিয়ে আসে। রিনা রায় ভালবেসে মহেশকে বিয়ে করেছিলেন। চমৎকার কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। এরই মধ্যে জন্ম নিলো চমৎকার মেয়ে সুনালী। সুনালীকে নিয়ে রিনা আর মহেশ কাজের ব্যসততার পাশাপাশি আনন্দে দিন কাটতে লাগলো। To love and be loved is to feel the sun from both sides দিন যায় বছর যায় সুনালী এখন কলেজে পড়ে। হঠাৎ মধ্যে বয়সে রিনার মধ্যে আসে পরিবর্তন।মহেশকে রিনা কেনো জানি এড়িয়ে চলে। কিছুদিন পর রিনা আলাদা হয়ে যায় । মহেশ পরে বুঝতে পারে। তার স্ত্রী রিনার, বন্ধু সুভাষের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে গেছে। মহেশ সুভাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে। রিনা, বলে সুভাষ তার বিশ্বস্ত বন্ধু। মহেশ সরল ভাবে রিনাকে বলে সুখী পরিবারের জন্য বিয়ের পর মেয়েদের ছেলে বন্ধু থাকা উচিত নয়। এই কথা শুনে রিনা মহেশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এরপর ছয় মাস চলে গেলো। মহেশের মন রিনার জন্য বিষাদময় হয়ে আছে। রিনার শরীরের ঘ্রান আজও মহেশের সারা ঘরে। ঘরের আলনায় এখনও রিনার দৈনন্দিন ব‍্যবহারিক শাড়ি, ব্লাউজ, ব্রা, পেটিকোট সবকিছু পড়ে আছে। শুধু রিনা নেই।মেধাবী পুরুষ মহেশের কাজে গেলেও মন বসে না।
একদিন মহেশের কলেজ জীবনের বন্ধু অজিত দেখা করে বললো, কিরে মহেশ তুই আমাকে আজকাল এড়িয়ে চলিস। আমি কোন অপরাধ করেছি তোর সাথে। প্রতি সপ্তাহে আমার সাথে চা কফি পান করতে। তুই কবিতা লিখে আমাকে পড়ে শুনাতে। আমরা আনন্দিত মনে আড্ডা দিতাম। মাঝে মধ্যে মান্নাদের সেই কফি হাউসের আড্ডার গান গুনগুন করে গাইতাম। কিন্তু এখন প্রায়ই মোবাইল ফোন করি কিন্তু ফোনের উত্তর দিতে পারিস না।
ভারাক্রান্ত মনে মহেশ বলে, অজিত আমি ভালো নেই। আমার আদরের মেয়েকে নিয়ে আমার স্ত্রী রিনা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। অজিত বলে, তোর বউ চলে গেছে। আবার ফিরে আসবে তোর এতো চিন্তা কিসের। মহেশ বলে, নারে বন্ধু রিনা আর ফিরে আসবে না। আমাকে সে জানিয়ে দিয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে ডিভোর্স লেটার পাঠাবে। আমার ফোনের কোন উত্তর দিচ্ছে না। অজিত বলে, বন্ধু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তোমাদের একটা চমৎকার মেয়ে আছে। তোমাদের সংসারে কী হলো বুঝতে পারছি না। তোর বউ রিনা সংসারে না আসে কিছুই করার নেই। তুই স্মার্ট সুন্দর সুপুরুষ। প্রয়োজনে আরেকটা বিয়ে করবি।জীবনচক্রের মধ্যে পড়ে হতাশ হবি না। মহেশ বলে, বন্ধু রিনা চলে যাওয়ার বিষয় আমি সহজভাবে নিতে পারছি না।
সন্ধ্যা রাত। চারিদিকে নিস্তব্ধতা। মহেশ তার আদরের মেয়ে সুনালী ও রিনার কথা বারবার মনে পড়ছে। মহেশ রিনার ফ্লাটে চলে যায়। রিনার দরজায় নক করে। রিনা দরজা খুলে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মহেশকে বলে, কি জন্যে এসেছো। মহেশ বলে, রিনা তোমার শূন‍্যতা আমি মেনে নিতে পারছি না। সুভাষ তোমার বন্ধু আর আমি তোমার স্বামী। তারচেয়েও বড় কথা হলো আমি তোমার মেয়ের বাবা। রিনা বলে, আমি আর কখনো তোমার জীবনে ফিরবো না। এটাই আমার শেষ কথা। তারপর রিনা জোরে দরজা বন্ধ করে দেয়।মহেশ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বাসায় ফিরে। আর মহেশ ভাবছিল যাকে সারাজীবনের জন্য সাত পাকে বন্ধনের স্বপ্ন রচনা করেছিলাম। রিনা আজ সেই বাঁধন খুলে চলে গেলো। কোন অপরাধ বা কী দোষ ছিলো তা আর জানা হলো না। তারপর মহেশ তার সাত তলা বাড়ির উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে। True love doesn’t have a happy ending because true love doesn’t end .

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *