গুচ্ছছড়া- লুৎফুর রহমান চৌধুরী
শরতের রাঙা ঠোঁটে
শরতের ঐ রাঙা ঠোঁটে
সাদা মেঘের খেলা
দু,চোখে আজ ভেসে বেড়ায়
আনন্দেরই ভেলা।
খাতার পাতায় লিখে যাচ্ছি
শরৎ রাণীর গল্প.
কাশফুল গুলো হাওয়ায় নড়ে
গাছের মধ্যে অল্প।
তুমি রূপে অপরূপা
তোমার পিছু ছুটি.
তোমায় যখন ছুঁতে যাবো
মনের মাঝে জুটি।
ওগো আমার প্রাণের প্রিয়া
যদি ভালোবাসো.
দেখবে আমায় নয়ন ভরে
ফিরে তুমি আসো।
খাতার পাতায় গল্প লেখা
পড়বে মনটা দিয়ে.
চোখেতে চোখ রেখে বলবো
তুমি আমার প্রিয়ে।
নিত্য সঙ্গী
ছাতা আমার নিত্য সঙ্গী
রৌদ্র বৃষ্টির দিনে,
রৌদ্র পোড়া স্বপ্নগুলো
বাঁচে না বৃষ্টি বিনে।
লাল রঙের শালুতে গাঁথা
বন্ধু তোমারই নাম
তোমার দেওয়া ভালোবাসা
ভর্তি রঙিন খাম।
মনের দুয়ার যতই নড়ে
মেঘ বৃষ্টি ঝড়ে
বন্ধুর হাত রাখবো আমি
শক্ত করে ধরে।
একদিন ঝরে যাবে
সুঁতা দিয়ে গাঁথা মালা
একদিন যাবে ঝরে
ভালোবাসার ফুলদানি
থাকবে একাই পরে।
ফিরে ফিরে আসে স্মৃতি
চোখের সামনে ভাসে
ফেলা আসা দিনগুলো
খিলখিলিয়ে হাসে।
হেলায় হেলায় বেলা যাচ্ছে
লেখা হয়নি কিছু
লাগাম ধরে টানছে শব্দ
থেকে আমার পিছু।
নদীর বুকে তরী ভাসে
ঢেউ করে খেলা
হিসাব নিকাশ মিলছে আজ
কেটে যাচ্ছে বেলা।
আকাশ বুকে তারা জ্বলে
মিটি মিটি করে
আকাশের বুক বেয়ে বেয়ে
বৃষ্টির পানি পড়ে।
বেহেস্তের চাদর
মা জননীর আঁচলখানি
বেহেস্তের চাদর
ওই চাদরে লুকিয়ে আছে
স্নেহ ভরা আদর।
সুখের ছায়া হয়ে জননী
থাকেন মোর পাশে
ভোর বেলা কোকিল ডাকে
বসে কদম গাছে।
মমতাময়ী মাতা আমার
আঁধার ঘরে আলো
হাসি মুখে সময় কাটান
হয়না মুখটা কালো।
খাঁচায় বন্দি জীবন মাগো
বড়ই খারাপ লাগে
সুখের বদলে দুঃখগুলো
থাকে আমার ভাগে।
নদীর মতো মায়ের মনটা
নয় এমন আর কারো
ইচ্ছে হচ্ছে জননীর কথা
বলি একটু আরো।
কদম ডালে
বর্ষাকালে কদম ডালে
ফুটে আছে ফুল
বৃষ্টিভেজা ঘাসের ডগায়
খাচ্ছে যেনো দুল।
বাতাস এসে দিচ্ছে নাড়া
গাছের শক্ত মূল
পানি স্রোতে ভেসে চলে
নদীর দুটি কূল।
ঘাসের উপর মেঘের ছায়া
কচুপাতায় জল
গাছে গাছে ঝুলে আছে
গীষ্মকালীন ফল।
বাসা বাঁধতে পাখি খুঁজে
উঁচু গাছের ডাল
একত্র হয়ে ছুটে আসে
হলুদ পাখির পাল।
কেটে গেছে
প্রবাস জীবন কেটে গেছে
সবার দিকে চেয়ে
সকল আশা ভেঙে গেলো
তরীখানা বেয়ে।
হিসাব মেলাতে পারিনা ভাই
শেষ বয়সে এসে
চারিদিকে অন্ধকার আজ
ভাবছি একাই বসে।
আমার হাতের দিকে সবাই
থেকে চেয়ে চেয়ে
ভাঙা নৌকা কেমন করে
যাবো আমি বেয়ে।
খালি হাতে ফিরতে বাড়ি
মনটা কেমন করে
কষ্টের কথা কেউ বুঝেনা
অশ্রু ঝরে পড়ে।
