ছড়া- শাহীন রায়হান
এই দিঘিটা বড্ড আপন মনের মাঝে আঁকা
কাজল দিঘির জল ছুঁয়েছে কাঁঠালচাঁপার হাঁসি
এই দিঘিটার শোল-পুঁটিদের বড্ড ভালোবাসি।
মাছের সাথে পাখির সাথে ঢেউ
এই দিঘিতে রোজ দুপুরে সূর্য ভাসায় কেউ
রাতের বেলা চন্দ্র ভাসায় জোছনা পরে গলে
বন মহুয়া আকুল করে জোনাই পোকা জ্বলে।
টিন টিন টিন টিন
মিনজিরি মিনমিন
জল ফড়িঙের কায়া
এই দিঘিটা কাজল বাটি
নিত্য বাড়ায় মায়া।
গান ঝিঁঝিঁদের সুর শুনে রোজ স্বপ্ন আঁকি মনে
দিঘির জলে স্নেনান করে যাই হারিয়ে বনে
রোদ থৈথৈ রোদ থৈথৈ রোদের সোনা রূপ
জল ফিসফিস কোড়া ডাকে সবাই যখন চুপ।
বুলবুলিটা বুলবুলিয়ে রোজ দিঘিকে গান শুনিয়ে
দেয় ছড়িয়ে পাখা
এই দিঘিটা বড্ড আপন মনের মাঝে আঁকা।
কলমের জয়গান
কলমের মুখ
কাগজের বুকে লিখে ভাঙে নীরবতা
গল্প কবিতা লিখে, লিখে রূপকথা
অঙ্ক জ্যামিতি লিখে করে গুন ভাগ
একটানে ছবি আঁকে ভাঙে অনুরাগ।
তারপর
ঝরঝর লিখে শত ছড়া
দূর করে অভিমান যত ভাঙাগড়া
খুকুর সঙ্গী হয় লাল ব্যাগে ঘুরে
খোকার হাতে প্রিয় পাখি হয়ে উড়ে।
আর
কলমেই খুলে সব সাফল্য দ্বার
পৃথিবীর শুরু শেষ যা কিছু আছে
সব কিছু ঋণী এই কলমের কাছে।
কলমের জয়গান আছে কতশত
তুমি যদি হতে চাও আকাশের মতো
কলমেই লিখে যাও সব অবিরত
মুখে শিখে হাতে লিখো যদি বারবার
এ কলমে খুলবেই ভাগ্য দুয়ার।
অতঃপর
তোমাকে থামাতে যদি নেমে আসে যমো
সব বাঁধা ভেঙেচুরে
মেঘ হয়ে উড়ে উড়ে
তুমি হবে সত্যি এভারেস্ট সম।
হেমন্ত নিয়ে এলো নতুন সকাল
লাল নীল সাদা কালো আসমানী আর
বেগুনি হলুদ কতো রঙের বাহার
কতো-শত রঙে প্রিয় রঙতুলি মাখা
খোকাটার দুই গালে পিঠা পুলি আঁকা।
খুকুটার ক্যানভাস প্রজাপতি পাখা
তার পাশে সোনা ধান নবান্ন রাখা।
আঁকাবাঁকা মেঠোপথ বুবুটার ঠোঁটে
আহ্লাদে কৃষাণীর খুশি ফুল ফোটে
পাশে নদী বিষখালী থমকে দাঁড়ায়
হেমন্ত নেমে এলো কৃষক পাড়ায়।
ঝিরিঝিরি ঝিরঝির পাতার নূপুর
বাবার ড্রয়িং খাতায় মধ্য দুপুর
শরতের মেঘ ধোয়া তমালের ডাল
হেমন্ত নিয়ে এলো নতুন সকাল।
জোনাকির বই
মায়া ভরা নীল মেঘ পাখিদের ডানা
নদী জলে দোল খায় চাঁদ আধখানা
কার্পাস তুলো সাদা কাশফুল খই
শিউলির পাতা যেন জোনাকির বই।
পূব জানালায় হাসে কচি নিমফুল
প্রভাতের গান গায় আমের মুকুল
তাল পিঠা ঠোঁটে দেয় আরামের ভাপ
নিঝুম আকাশ যেন রঙিন গোলাপ
এই মেঘ এই রোদ ছাতিমের ডালে
শরতের ছবি আঁকে প্রকৃতির গালে।
