বিজ্ঞান কল্পকাহিনি।। ইলাবৃত।। কমলেশ রায়।। পর্ব বাইশ
সায়েন্স ফিকশন ।। ইলাবৃত - কমলেশ রায়
বাইশ.
পরদিন দুপুর নাগাদ সংবাদটা ছড়িয়ে পড়ল। সকাল পৌনে এগারটার দিকে বিজ্ঞানী ঈশান মারা গেছেন। ডা. এলিজা এগারটার আগেই মৃত্যুর খবরটা জানিয়েছেন ডা. অমিয়কে। প্রতিটি মৃত্যুই বিয়োগের বার্তা দিয়ে যায়। বিজ্ঞানী ঈশানকে বরাবরই ঘৃণার চোখে দেখেছেন ডা. অমিয়। হালে তার জন্য এক ধরণের করুণা হতো। কিন্তু আজ মৃত্যুর সংবাদ জানার পর তার জন্য কেন যেন মায়া হচ্ছে।
ডা. অমিয়’র কেবল একটা কথাই মনে হচ্ছে, প্রতিভার সীমাহীন অপচয় করেছে লোকটি। ক্ষমতার পেছনে আজীবন ছুটে বেড়িয়েছেন বিজ্ঞানী ঈশান। কী পেলেন শেষপর্যন্ত? গৌরব করার মতো কিছুই তো যোগ হয়নি প্রাপ্তির খাতায়। কী ক্ষ্যাপামিটাই না করেছেন নিজের জীবন নিয়ে। আত্মীয়স্বজনের থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন অনেক আগেই। সংসারটাও টিকল না। বউ আন্নি অনেক চেষ্টা করেছিল তাল মেলাতে। কিন্তু অবশেষে আর পারেনি। ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নিরলস গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানী ঈশান। কৃবুদেরকে নিজের ইচ্ছে মতো ব্যবহার করতে চেয়েছেন। কখনও কখনও করেছেনও। কিন্তু আসলে কী তাই? সূক্ষ্ম ভাবে দেখলে কৃবুরাই উল্টো তাকে ব্যবহার করেনি কী? এটাই হয়ত তার নিয়তিতে লেখা ছিল।
ডা. অমিয় চুপচাপ বসে ভাবছিলেন বিজ্ঞানী ঈশানকে নিয়ে। মানব কল্যাণের কথা শেষ সময়ে মাথায় ঢুকেছিল তার। ততদিনে দেরি হয়ে গেছে। ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ছিটকে পড়েছেন। একের পর এক অঙ্গ বিকল হয়ে সক্ষমতা হারিয়েছে শরীর । মৃত্যুর আগে সবারই হয়ত বোধ ফিরে আসে। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে চারপাশকে বিচার করতে পারে।
বাবা, বিজ্ঞানী ঈশানের মৃত্যুতে অধিপতি উতু শোকপ্রকাশ করেছেন। অনেক ভালো ভালো কথা বলেছেন। অরি পাশের রুম থেকে উত্তেজিত হয়ে ছুটে এসে বলল। মৃত্যু সংবাদ জানার পর সে টিভিটিতে বিভিন্ন চ্যানেলে খবর দেখছিল। গ্রহীয় চ্যানেল ‘ইত্তেলা’ অধিপতি উতুর শোকপ্রকাশকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে। সেটা তো করারই কথা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটা ব্যাপার তো থেকেই যায়। ডা. অমিয় নির্লিপ্ত গলায় বললেন।
বাবা, তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।
অনুমতি নেওয়ার মতো কী ঘটল?
ব্যাপারটা সে রকম বলেই তো অনুমতি চাইছি।
আচ্ছা বলো, শুনি তোমার কথা।
আমি অধিপতি উতুর সঙ্গে দেখা করতে চাই। উনাকে একটু ছুঁয়ে দেখতে চাই।
প্লিজ, ব্যবস্থা করে দাও বাবা।
ডা. অমিয় অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
