ছড়া

সোমা মুৎসুদ্দী’র দশটি ছড়া


মায়ের মুখে শুনি আমি
গল্প এবং ছড়া
মায়ের কাছে প্রথম শেখা
আমার লেখাপড়া।

মা যে আমার ছায়া হয়ে
থাকতো কাছে, কাছে
মা যে এখন অনেক দূরে
তারার মাঝেই আছে।

গাইবে না আর আদর করে
ঘুম পাড়ানি গান
মায়ের কথা মনে হলেই
ব্যাথায় ভরে প্রাণ।


কলমি ফুলের হাসি ফোটে
গাঁয়ের পুকুর জলে
ছোট্ট খোকা ছন্দ ছড়ায়
দেশের কথা বলে।

ঝিলমিলিয়ে সূর্য হাসে
ছড়ায় বিকেল আলো
তারই সাথে গাঁয়ের পথে
চলতে লাগে ভালো।

বাউরি বাতাস বইছে দেখো
উত্তরের ঐ বিলে
বনভোজনে মেতেছে আজ
বন্ধু সবাই মিলে।

গাঁয়ের মায়ায় মায়ের মায়ায়
দিন কেটে যায় বেশ
ফুল ফসলে,উঠবে ভরে
আমার বাংলাদেশ।


রবীর গানে মেঘগুলো সব উড়ছে হাওয়ায় ভেসে
তারই সাথে হৃদয় দোলা লাগলো বুঝি এসে।
সোনার তরী যায় ভেসে যায় নদীর বুকে ঐ
বৃষ্টি ভেজা মেঘলা দিনে কার কথা আজ কই।
কোন পাহাড়ে যায় হেঁটে যায় সাঁওতালি এক মেয়ে
মন খুলে আজ বনের কথা উঠলো সুখে গেয়ে।
তারই সাথে বন ময়ূরী পেখম খুলে নাচে
বৃষ্টি ভেজা জল দেখি আজ মনের গহীন কাঁচে।


স্বাধীন দেশের শ্রমিক কৃষক
দেশটাকে আয় গড়ি
তারই সাথে ছন্দ ছড়ায়
দেশের কথাই পড়ি।

বীর শহীদের রক্তে গড়া
একটি বাংলাদেশ
ফুল ফসলের সমারোহে
মধুর পরিবেশ।

পাখির ডাকে ভোরের বেলায়
ভাঙায় খোকার ঘুম
মা এঁকে দেয় ভালোবেসে
কপালে তার চুম।

স্বাধীন দেশের স্বাধীন মাটি
গর্বে ভরে বুক
এই দেশেতে জন্ম, আমার
চিরকালের সুখ।


ছবির মতো দেশটি আমার
আগলে রাখে বুকে
দখিন হাওয়া যায় বয়ে যায়
অজানা এক সুখে।

নদীর উপর বয়ে চলে
নৌকা সারি, সারি
নদীর পাড়েই স্বপ্ন সুখের
আমার মাটির বাড়ি।

পুব দিকেতে পাহাড় আছে
পাখপাখালির গান
সবুজ মাঠে মনের সুখে
কৃষক ফলায় ধান।

গানের এদেশ প্রাণের এদেশ
থাকে হৃদয় জুড়ে
প্রজাপতির রঙিন ডানায়
কিশোর এ-মন উড়ে।


আঁকতে পারি দেশের ছবি
লিখতে পারি ছড়া
সেই ছড়াটা ফুল পাখি মাছ
আলোয়, আলোয় ভরা।

গাছের ছায়ায় গাঁয়ের মায়ায়
নিত্য আমি পড়ি
সবুজ শ্যামল এদেশটাকে
মনের মাঝে গড়ি।

সবুজ মাঠের বাউরি বাতাস
জুড়ায় আমার মন
নদীর জলের ঢেউগুলোও
জাগায় আলোড়ন।

খোকার হাসি ঝিলিক মারে
ঝরে চাঁদের আলো
তারই সাথে খুকির কথা
শুনতে লাগে ভালো।


আয়রে টিয়ে ময়না পাখি
গান শোনাবি আয়
উদাস দুপুর মিষ্টি সময়
যায়রে বয়ে যায়।

আয়রে টিয়ে ময়না পাখি
বনের মাঝে উড়ি
সাথে নিয়ে শালিক চড়ুই
সবার সাথেই ঘুরি।

আয়রে টিয়ে ময়না পাখি
মিষ্টি সুরে ডাকি
মনের মাঝে তোদের ছবি
খুব যতনে আঁকি।


এই যে আমার দেশের মাটি
শীতল পরিপাটি।
ফুল ফসলের এদেশ আমার
সোনার চেয়ে খাঁটি।

পাখপাখালির কিচিরমিচির
শুনতে লাগে বেশ
সবুজ মাঠে বাউরি বাতাস
মধুর পরিবেশ।

মাটির বাড়ি শান্তি সুখের
পুকুর ভরা মাছে
তারই সাথে গাছের ছায়ায়
মনটা পড়ে আছে।

কৃষক ফলায় দূরের মাঠে
শাক সবজি ধান
রূপের এদেশ ঠান্ডা হাওয়া
জুড়ায় আমার প্রাণ।


শিশু শ্রমিক পায়না ওদের
পরিশ্রমের দাম
কঠিন পরিশ্রমে ঝরায়
দরদরিয়ে ঘাম।

মালিক ওদের খাটায় বেশি
মূল্যটা দেয় কম
কথায় কথায় মারতে আসে
যেনো তাদের যম।

পেটের ক্ষুধায় করে শিশু
নানান ঝুঁকির কাজ
ঘরে অভাব তাইতো ওদের
নেইতো কাপড় সাজ।

ওরাও চায় মানুষ হতে
করতে পড়াশোনা
তবু তাদের জীবন যেনো
দুঃখ দিয়েই বোনা।

শিশুকে দাও মানুষ হতে
সকল সুযোগ করে
তবেই এদেশ ফুল ফসলে
উঠবে আবার ভরে।

এই গ্রামেরই ছোট্ট মেয়ে
নামটি দুপুরলতা
ফুলের সাথে পাখির সাথে
নিত্য বলে কথা।

দেশের জন্য দুপুরলতার
অনেক ভালোবাসা
দেশকে নিয়ে স্বপ্ন অনেক
জাগায় মনের আশা।

ফুল ফসলে গ্রামটাকে সে
ভরিয়ে দেবে জানি
দুপুরলতাই হলো গ্রামের
আসল মহারানী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *